দারিয়াপুর, মেহেরপুর, বাংলাদেশ dariapurlichutola@gmail.com Admin Panel
Saidur Rahman
29 ভিউ
8 সম্পর্কিত
বিবরণ
অ্যালবাম Cultural Faces
বিভাগ
আপলোড 08 Jul 2026
বিস্তারিত বিবরণ
সাহিত্য, নাট্যচর্চা ও সংস্কৃতির বিকাশ একটি সমাজের মনন, মূল্যবোধ ও মানবিকতার পরিচয় বহন করে। সেই চর্চাকে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠা, মেধা ও সৃজনশীলতায় সমৃদ্ধ করে চলেছেন মেহেরপুরের বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব সাইদুর রহমান। নাটক, যাত্রা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে। লোকজ ঐতিহ্য, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে তাঁর নির্দেশনায় অসংখ্য নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। দর্শকপ্রিয় এসব নাটক শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সমাজসচেতনতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁর শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল উপস্থাপনা নাট্যমঞ্চকে করেছে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ। মেহেরপুর শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এনে দিয়েছিলেন নতুন গতি। স্থানীয় শিল্পী, নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠকদের একত্রিত করে শিল্পকলাকে তিনি পরিণত করেছিলেন প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে। তাঁর নেতৃত্বে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান দর্শক প্রিয়তার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে করেছে আরও সমৃদ্ধ। যৌবনকাল থেকেই সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত সাইদুর রহমান পেশাগত জীবনেও ছিলেন একজন শিক্ষক। শিক্ষকতা তাঁকে যেমন মানবিক ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে, তেমনি সংস্কৃতির মাধ্যমে সমাজ গঠনের বিশ্বাসকেও আরও দৃঢ় করেছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে তিনি সবসময় একই আদর্শের দুইটি পরিপূরক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন জাতীয় দিবস, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক থেকে শুরু করে সামাজিক সচেতনতামূলক বিভিন্ন নাট্য প্রযোজনায় তাঁর দক্ষ নির্দেশনা দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছে বারবার।
শুধু নাট্যচর্চাই নয়, সাহিত্য অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান। শিল্পকলা একাডেমিতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্থানীয় সাহিত্যিক ও শিল্পীদের মূল্যায়ন করেছেন, প্রকাশ করেছেন সাহিত্যপত্র, স্মারকগ্রন্থ ও বিশেষ প্রকাশনা। তাঁর এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের লেখক, শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছে সৃজনশীল কাজে।
আজও তিনি বিশ্বাস করেন, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চাই পারে একটি সমাজকে আলোকিত করতে। মাদকাসক্তি, সামাজিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধের সংকট মোকাবিলায় সংস্কৃতিকেই তিনি সবচেয়ে কার্যকর সামাজিক শক্তি হিসেবে দেখেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও সাংস্কৃতিক দর্শন আগামী প্রজন্মের জন্য এক মূল্যবান প্রেরণা। মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে সাইদুর রহমান কেবল একজন নাট্যব্যক্তিত্ব নন,তিনি এক নিবেদিত প্রাণ সংস্কৃতিসেবী, যাঁর কর্ম ও অবদান ভবিষ্যতেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবেন সংস্কৃতি প্রেমীরা।
শেয়ার করুন
ফেসবুক WhatsApp