রাজনীতির উত্তাল পথ, মানুষের সেবা আর শিক্ষার আলোকবর্তিকাকে এক সুতোয় গেঁথে এগিয়ে চলা এক পরিচিত নাম কামরুল হাসান চাদু। মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি একসময় ছিলেন সক্রিয় রাজনৈতিক মুখ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনপ্রিয়তাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।
রাজনীতির ময়দানে তাঁকে মোকাবিলা করতে হয়েছে মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারা জীবনের কঠিন বাস্তবতা।
দলীয় রাজনীতিতে উপজেলা পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। সময়ের স্রোত বদলেছে, বদলেছে তাঁর ব্যস্ততার কেন্দ্রবিন্দুও।
বর্তমানে রাজনীতিতে অনেকটাই নীরব ও নিষ্ক্রিয় তিনি।
তবে থেমে নেই তাঁর জীবনযাত্রা কিংবা মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। হাসিমাখা মুখ, আন্তরিক আচরণ আর সাদা-সিধে জীবনযাপন আজও তাঁর পরিচয়ের অন্যতম অংশ। যাঁরা তাঁর কাছে যান, তাঁরা পান সহজ-সরল একজন মানুষকে। রাজনীতির মঞ্চ থেকে সরে এসে এখন তিনি সময় দিচ্ছেন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে।
দারিয়াপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'প্রেরণা একাডেমী' দীর্ঘদিন ধরে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ার স্বপ্ন নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে মুজিবনগরে কুদরত-ই খুদা ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাব পরিচালনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাও পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের দোরগোড়ায় বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের জন্য।
শিক্ষা ও চিকিৎসা-এই দুই মানবিক স্তম্ভকে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডও তাঁর বর্তমান জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামাজিক নানা উদ্যোগেও রয়েছে তাঁর নিয়মিত সম্পৃক্ততা। ক্ষমতার চেয়ার ছেড়ে মানুষের পাশে থাকার যে নীরব প্রতিজ্ঞা, সেটিই যেন এখন তাঁর জীবনের নতুন ভাষ্য। রাজনীতির কোলাহল থেকে দূরে থেকেও তিনি হারিয়ে যাননি মানুষের হৃদয় থেকে। বরং কর্মের মধ্য দিয়েই নিজেকে নতুনভাবে পরিচিত করে তুলছেন। জীবনের প্রতিটি অধ্যায় তাঁকে শিখিয়েছে ধৈর্য, সংগ্রাম ও দায়িত্ববোধের মূল্য। সেই অভিজ্ঞতা কেই তিনি আজ সমাজের কল্যাণে কাজে লাগাতে চাইছেন। সময়ের নদী যেমন মোহনা বদলায়, তেমনি মানুষও কখনো কখনো বদলে নেয় নিজের গন্তব্য। কামরুল হাসান চাদুর বর্তমান জীবনও যেন সেই পরিবর্তনেরই এক শান্ত, সংযত ও মানবিক প্রতিচ্ছবি।