দারিয়াপুর, মেহেরপুর, বাংলাদেশ dariapurlichutola@gmail.com Admin Panel
  1. হোম
  2. আর্কাইভ
  3. চেয়ারম্যান ছমির উদ্দীন
Chairman Samir Uddin
চেয়ারম্যান ছমির উদ্দীন
Chairman Samir Uddin
Social Worker
ব্যক্তিগত তথ্য
এলাকা Meherpur, Mujibnagar
গ্রাম Gopalpur
ভিউ 20
শেয়ার করুন
আর্কাইভে ফিরুন

চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ, সদর, মেহেরপুর।

জীবনী
ইতিহাসে কিছু মানুষের পরিচয় শুধু পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ থাকে না,তাঁদের কর্ম, ত্যাগ ও আদর্শ একটি সংগঠন কিংবা একটি জনপদের ইতিহাসের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়। মেহেরপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ভিত্তি নির্মাণে এমনই একজন অগ্রপথিক ছিলেন মরহুম হাজী ছমীর উদ্দিন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি আদর্শ, নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।
১৯৮৩ সাল থেকে তিনি সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। সে সময় সংগঠনটি মেহেরপুরে ছিল বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে। সীমিত জনবল, প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি নিরলস পরিশ্রম করে সংগঠনকে তৃণমূলে বিস্তৃত করেন। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মেহেরপুরে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ভিত্তি ধীরে ধীরে সুদৃঢ় হয়ে ওঠে। ১৯৮৯ সালে তিনি মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনকল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও সম্মান অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা প্রায় দুই দশক তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, মেহেরপুর জেলা শাখার আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী হয়, নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয় এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যক্রম বিস্তৃত হয়। নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন শৃঙ্খলা, সততা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক প্রজ্ঞার প্রতীক। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক আদর্শকে ধারণ করে পথচলা তাঁর জন্য সহজ ছিল না। সংগঠনকে এগিয়ে নিতে গিয়ে তাঁকে একাধিক মামলা, গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। ব্যবসায়িক জীবনেও তাঁকে বারবার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকূলতাই তাঁকে তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, তাঁর বড় ছেলে তারেক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, যিনি দলীয় দায়িত্বেও ছিলেন, ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন। পরিবারের ভাষ্য, এই মর্মান্তিক ঘটনা তাঁদের জীবনে গভীর শোকের ছাপ ফেললেও হাজী ছমীর উদ্দিন আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি এবং ধৈর্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে পথচলা অব্যাহত রাখেন। তিনি রাজনীতিতে আসার আগে
শিক্ষাজীবন শেষে কিছু সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। পরে দীর্ঘ সময় কুয়েতে প্রবাসজীবন ছিলেন পরে দেশে এসে রাজনীতি ও সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ যেটা মরার আগ পর্যন্ত কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি।
জীবনের শেষ অধ্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের সঙ্গে বসবাস করছিলেন। পরবর্তীতে তিনি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে মেহেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন হারায় একজন অভিজ্ঞ সংগঠককে, আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হারায় দীর্ঘদিনের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বকে। মেহেরপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা তাজউদ্দিন খাঁনের ভাষায়, হাজী ছমীর উদ্দিন ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক—সব ক্ষেত্রেই সংগঠনের জন্য অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁর অবদান দল সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর ছেলে দন্ত চিকিৎসক তাওয়াবুল জানান, তাঁদের বাবা সন্তানদের সততা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শিক জীবনচর্চার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। পরিবারের সদস্যরা আজও সেই মূল্যবোধ ধারণ করার চেষ্টা করছেন। মেহেরপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে হাজী ছমীর উদ্দিন কেবল একজন দলীয় নেতা নন,তিনি ছিলেন ত্যাগ, আদর্শ, সাংগঠনিক প্রজ্ঞা এবং নৈতিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর কর্মময় জীবন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একজন নিবেদিত সংগঠক, সাহসী রাজনৈতিক কর্মী এবং আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে মেহেরপুরের ইতিহাসে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।