বীর মুক্তিযোদ্ধা, চারু শিল্পি, চারুকলা শিক্ষক, জেলা শিল্পকলা একাডেমী, মেহেরপুর।
জীবনী
চিকিৎসা শাস্ত্রের কল্যাণ ও শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্যে নিজ শরীর ঢাকা মেডিকেল কলেজে দান করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা।
তিনি ছবি আঁকতেন। শুধু তাই ই নয়, তিনি শিশুদের আঁকা শেখাতেন। শেখাতেন কিভাবে মানুষের মুখ আঁকতে হয় ; কিভাবে সহজ সরল মাটির গন্ধ মাখা মানুষের মুখ আঁকতে হয় ; শেখাতেন কিভাবে নদী, মাঠ, গাছ, পাখি, বাঁশ বাগান, গ্রাম, সন্ধ্যা, বাতাস, শুন্যতা, বাংলাদেশের ছবি আঁকতে হয়। ব্যাক্তি জীবনে তিনি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে কোন দিক চিন্তা না করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেশ মাতৃকার শৃঙ্খল ভাঙ্গার জন্যে, এক সাধারণ গৃহস্থ পরিবারের নিকানো শান্ত উঠান থেকে উঠে আসা এই যুবক হাতে তুলে নেন রিকয়ারলেস রাইফেল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এঁর মেধাবী শিক্ষার্থী হয়েও ডিগ্রী শেষ না করেই চলে আসেন নিজ গ্রামে। স্বপ্ন দেখতেন এক বৈষম্যহীন, বঞ্চনাবিহিন এক স্বাধীন দেশের, এক জ্ঞান ভিত্তিক, কুসংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক সমাজ ব্যাবস্থার। গোলাম মোস্তফা কম কথার মানুষ ছিলেন। গায়ে পরে কাউকে জ্ঞান দেওয়া ছিল তাঁর স্বভাব বিরোধী। উনি ছিলেন অপরিসীম জ্ঞানের অধিকারী একজন ; তারমধ্যে অন্যতম শিক্ষা হল, যে জ্ঞান পুঁথি নির্ভর তা তুচ্ছ,; মানুষ অমৃতের সন্তান ---তাই তাকে জ্ঞান নিতে হয় আকাশ,বাতাস, মাটি, নদী, সমুদ্র, পাহাড়-পর্বত আর মানুষের কাছে থেকে ; সত্যিকারের শিক্ষা হল প্রকৃতির কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষা।