জীবনী
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কৃতি সন্তান আজিজুল হক মাস্টার।
তিনি বাঁশবাড়িয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি এলাকায় তাঁর পরিচিতি 'গাছ দাদু' নামে।তিনি মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের গাংনী থেকে গাঁড়াডোব পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার জুড়ে দুই পাশে চোখে পড়ে বিভিন্ন ধরনের ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। আম, কাঁঠাল, বেল, কতবেল, পেয়ারা, আমড়া, বাতাবি লেবুসহ গাছে গাছে শোভা পায় মৌসুমি ফল। হাজারও গাছের ফল স্থানীয় মানুষ বিনামূল্যে খাচ্ছেন প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে। নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে গাছগুলো লাগিয়ে বড় করেছেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আজিজুল হক।তিনি প্রায় ৬০ বছর ধরে বিভিন্ন সড়কের দুই পাশ ও পতিত জমিতে গাছ লাগিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে গেলেও বসে নেই তিনি। ফজরের নামাজ পড়েই বেরিয়ে যান গাছ পরিচর্যায়। কোনোটি মারা গেলে নতুন চারা রোপণ করেন। নিজের ঝাড়ের বাঁশ কেটে ঘিরে দেন, আগাছা পরিস্কার করে দেন।তিনি দীর্ঘদিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা তাঁর পেনশনের টাকা খরচ করছেন গাছের চারা কেনা ও পরিচর্যায়। জায়গা নিচু হলে মাটি ভরাটও করেন নিজের খরচে। গাছের ছায়ায় মানুষ অবসর সময় কাটালে তিনি খুশি হন। নিজেও বসে যান গল্প করতে।
তিনি বলছিলেন, এ কাজের পেছনে ধর্মীয় অনুভূতির ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার মানুষ ফল খেয়ে উপকৃত হয়। জীবন বাঁচাতে দরকারি অক্সিজেন গাছ থেকেই আসে। পরিবেশ রক্ষায় গাছের বিকল্প নেই, এমন ভাবনা থেকে তিনি নিঃস্বার্থ শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। ১৯৬১ সালে ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে শিক্ষকতার সময়ও গাছ কিনে পতিত জায়গায় লাগিয়ে দিতেন। ১৯৯৮ সালে তিনি অবসর নেন শিক্ষকতা থেকে।